আসন্ন নির্বাচনকে পরিবর্তন ও সংস্কারের নির্বাচন আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি এই পরিবর্তনের প্রতীক। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে সব জালেমকে পরাজিত করার দিন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সাভারে ১১ দলীয় জোটের এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর জনগণ আর নতুন কোনো জালেমকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এই নির্বাচন সেই গণআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম হটস্পট সাভার এবার ১১ দলীয় জোটের আসনে পরিণত হবে। ইসলামী শক্তি, তারুণ্যের শক্তি ও দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, সারা দেশে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং এই জোটই সরকার গঠন করবে।
দেশের বর্তমান সময়কে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই নির্বাচন সম্ভব হচ্ছে। ১১ দল সরকার গঠন করলে বাংলাদেশ হবে আধিপত্যবাদমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র। তিনি বলেন, যারা দিল্লির দাসত্ব করতে চায়, তাদের এ দেশে কোনো স্থান হবে না; বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ থেকেই নেওয়া হবে।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ হত্যার বিচারে একচুল ছাড় দেওয়া হবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখনো বিচার না হওয়া সরকারের বড় ব্যর্থতা। দ্রুত বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হাদির পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ সহ্য করা হবে না।
প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি দল বিভিন্ন ছোট দলকে গ্রাস করে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তবে ১১ দলীয় জোট কোনো হুমকিতে ভয় পায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিদেশ থেকে এসে ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বলা এক নেতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যিনি দেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞ, তার পরিকল্পনা জনগণ ইতোমধ্যে বুঝে গেছে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতার কথা বলে যারা বড়াই করছেন, ২০০১–২০০৬ সালের শাসনামলেই জনগণ সেই অভিজ্ঞতা দেখেছে। তাই অভিজ্ঞতার কথা বলে নিজেদের আর ছোট না করার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সারা দেশে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও মা-বোনদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, লাশের ওপর দাঁড়িয়ে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন বা ভারতের দালালি করার কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।
ভোটের অধিকার প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এনসিপি ও জামায়াত আলাদা আলাদা ইশতেহার দিলেও ক্ষমতায় গেলে সেগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করা হবে। কেউ ভোট চুরি বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে আবারও ৫ আগস্টের মতো গণবিপ্লবের মুখে পড়তে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।