এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের এনসিপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার তুষার বলেছেন, জনগণকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে, অথচ মানুষের আসল চাওয়া নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারোয়ার তুষার বলেন, “আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের দরকার নেই। আপনারা বরং আপনাদের দলের চাঁদাবাজদের ঠেকানোর কার্ড দেন। সেই কার্ড দেখিয়ে যেন আমরা চাঁদাবাজদের হাত থেকে নিস্তার পাই।” তিনি আরও বলেন, জনগণের ৫০টি কার্ডের প্রয়োজন নেই; একটি কার্ডই যথেষ্ট—আর সেটি হলো ভোটাধিকার।
তিনি অভিযোগ করেন, সারা দেশে একটি বিশেষ মহল এখনো ‘হাসিনা স্টাইল’ নির্বাচন করার দিবাস্বপ্ন দেখছে। এ ধরনের নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা হলে আবারও জুলাইয়ের মতো গণআন্দোলন গড়ে উঠতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সবাইকে জনগণের ভোটাধিকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পলাশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে এনসিপি নেতা বলেন, চাঁদাবাজ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত পলাশ গড়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রতীক ‘শাপলা কলি’-তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং পলাশে ‘পিএস পলিটিক্স’ চলতে দেওয়া হবে না। “আমরা এমপি নির্বাচন করতে চাই, এমপি নির্বাচনের নামে কোনো পিএস চাই না,”—বলেন তিনি।
সারোয়ার তুষার দাবি করেন, শাপলা কলির বিজয়ের মধ্য দিয়ে পলাশে পিএস সিস্টেমের অবসান ঘটবে। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও চাঁদাবাজ ছাড়া আমাদের কোনো শত্রু নেই। কেউ আগে কোন দলে ছিলেন বা এখন কোন দলে আছেন—তা নিয়ে আমাদের কোনো বিদ্বেষ নেই। তবে যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের সঙ্গে জড়িত, তারা আমাদের কাছে নিরাপদ নয়।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী এনসিপির সদস্য সচিব আওলাদ হোসেন জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেন, খেলাফত মজলিশের পলাশ উপজেলা সভাপতি মুফতি ফারুক ভুঁইয়া, ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক ফাহিম ভুঁইয়া রাজসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।