আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যে এবার প্রথমবারের মতো সেনাসদস্যদের ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা আগের কোনো নির্বাচনে ছিল না।
ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত নিশ্চিত করতে এই বাড়তি মোতায়েন ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানের রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ কর্মসূচির আওতায় সেনাবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সেনাসদরের সামরিক অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ হাজার সেনাসদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন ছিলেন এবং তারা মূলত দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন। তবে এবারের নির্বাচনে পরিস্থিতি বিবেচনায় এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বাড়তি মোতায়েনের কারণ ব্যাখ্যা করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর হোসেন বলেন, এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগে এ ধরনের অনুমতি ছিল না। সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন—সে লক্ষ্যেই সেনাবাহিনী প্রধান ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সদস্যদের রেখে বাকি সেনাসদস্যদের নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নামিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় যানবাহনের ঘাটতির কারণে সেনাবাহিনী অসামরিক প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়েছে। রিকুইজিশনের মাধ্যমে গাড়ি না পাওয়া গেলে ভাড়া করে হলেও সেনাসদস্যদের টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর হোসেন বলেন, সেনাসদস্যরা ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে টহল পরিচালনা করছেন। ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে এই কার্যক্রম গত ২০ জানুয়ারি থেকে আরও জোরদার করা হয়েছে।