জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত কয়েকদিন ধরে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সাইবার আক্রমণ চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, যারা জনগণের সরকার চায় না,
যারা পারিবারিক ও গোষ্ঠীতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম রাখতে চায় এবং দেশকে পরাধীন করে রাখতে আগ্রহী—তারাই তার এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে ‘মিসাইল নিক্ষেপের’ মতো অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি জানান, দলের সাইবার টিম ইতোমধ্যে বিষয়টি শনাক্ত করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ শহরের এ টিম মাঠে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় পর্যটন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নওগাঁ জেলায় বহু সম্ভাবনাময় দর্শনীয় স্থান রয়েছে। কিন্তু অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে এতদিন পর্যটন খাতে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলাম নওগাঁর পর্যটন শিল্পকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, গত ৫৪ বছরে বারবার বাংলাদেশ সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেরাই ক্ষমতাবান হয়েছে—জনগণের ক্ষমতায়ন করেনি। জনগণের পকেট কেটে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে। তারা জনগণের অর্থ লুট করেছে, ব্যাংক ও বীমা খাত ধ্বংস করেছে, শেয়ারবাজার লুটপাট করেছে এবং মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে।
এই লুণ্ঠিত অর্থ দেশে রাখার সাহস না থাকায় বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা। তিনি প্রশ্ন করেন, এই টাকা কার? তিনি বলেন, এটি জনগণের ঋণ ও করের টাকা। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এসব অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে—এই অঙ্গীকার করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা রাজপথে নেমেছিল—যুবক, তরুণ-তরুণী, কৃষক ও শ্রমিক—তারা কেউ বেকার ভাতার দাবি করেনি। তারা বলেছিল, তারা ভাতা নয়, হাতে হাতে কাজ চায়। আজ বেকার ভাতার প্রসঙ্গ আসছে কেন—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি যুব সমাজের উদ্দেশে বলেন, জামায়াতে ইসলাম যুবকদের শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। ভাষাভিত্তিক ও পেশাভিত্তিক দক্ষতা দিয়ে তাদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের হাতে রূপান্তর করা হবে। এরপর তাদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে বলা হবে—দেশ বদলানোর দায়িত্ব এখন তোমাদের।
কৃষিপ্রধান জেলা নওগাঁ সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের মোট খাদ্যশস্যের প্রায় এক-দশমাংশ নওগাঁ থেকেই উৎপাদিত হয়ে সারা দেশে সরবরাহ হয়। অথচ এই জেলার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। শহরের প্রধান সড়ক ফোরলেন করা এবং মানসম্মত হাসপাতাল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে সরকার গঠিত হলে নওগাঁর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, নওগাঁর কৃষক ও খামারিরা ফসল সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় তাড়াহুড়ো করে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। এ সমস্যা সমাধানে ধান ও ফল গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে, পাশাপাশি আধুনিক সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে, যাতে সারা বছর ফসল সংরক্ষণ করা যায়। তিনি জানান, পুরো উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, যারা নিজের মা, মেয়ে ও স্ত্রীকে সম্মান করে, তাদের দেশের কোটি কোটি মাকেও সম্মান করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নারীদের প্রতি অসম্মান, হুমকি বা সহিংসতা বন্ধ না হলে জুলাইয়ের বিপ্লবীরা আবার জেগে উঠবে। মায়ের অপমান কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।