ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, জামায়াতের নেতারা এখনো ক্ষমতায় যেতে পারেননি, কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার রঙিন স্বপ্ন দেখছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই তাদের আচরণ অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ও দুঃখজনক। আমি এর তীব্র ধিক্কার জানাই।”
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কদমতলী পাটেরবাগ পানির পাম্পসংলগ্ন এলাকায় ঢাকা–০৪ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী–এর সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “খুলনায় হাতপাখার নারী কর্মীদের ওপর জামায়াতের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর আগে ভোলা–০৪ আসনে আমাদের প্রার্থীর বড় মেয়ের ওপর যে হামলা ও অশোভন আচরণ করা হয়েছে, তা কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। যারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড করে, তারা কখনোই ইসলামী দল হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “খুলনা–০১ আসনে আমাদের নারী কর্মীরা নারী ভোটারদের কাছে গণসংযোগ করতে গেলে জামায়াতের লোকেরা মা-বোন-কন্যাদের ওপর নগ্ন হামলা চালিয়েছে, বোরকা ছিঁড়ে ফেলেছে। এটা কেমন রাজনীতি? আমরা এসব বর্বর ও নিন্দনীয় কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
এ সময় তিনি প্রশাসন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে জামায়াত নেতাদের বক্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন পীর সাহেব চরমোনাই। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব। ঢাকা–১৭ আসনে জামায়াতের এক প্রার্থী সেনাবাহিনী সম্পর্কে যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।”
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এবারের জাতীয় নির্বাচনে নানা ধরনের মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামের পক্ষে মাঠে রয়েছে একমাত্র হাতপাখা প্রতীক। তাই ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষে সবাইকে হাতপাখায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা–০৪ আসনের প্রার্থী মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী। সভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরীসহ দলটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।