দুই দফা বিধবা ভাতার টাকা না পাওয়ায় বিষয়টি জানতে সমাজসেবা অফিসে যান হতদরিদ্র বৃদ্ধা মোছাম্মৎ মালেকা বেগম (৭০)। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথিতে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে তার নামে বরাদ্দ ভাতা বাতিল করে অন্য এক উপকারভোগীর নামে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
এ ঘটনা ঘটেছে নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের বাসিন্দা মোছাম্মৎ মালেকা বেগমের সঙ্গে।
খবরটি জানার পর মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ওই বৃদ্ধা নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা অফিসে অবস্থান করে প্রতিকার দাবি করেন। অফিস কর্তৃপক্ষ তাকে ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান হয়নি।
জানা যায়, রায়পাশা গ্রামের মৃত মো. চান মিয়ার স্ত্রী মালেকা বেগম দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বিধবা ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে গত দুই সেশনে তার মোবাইল অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা না আসায় তিনি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার সকালে সমাজসেবা অফিসে খোঁজ নিতে যান।
সেখানে তিনি জানতে পারেন, জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুহুল আমীন তার মৃত সনদসহ একটি প্রত্যয়নপত্র অফিসে জমা দেন।
ওই প্রত্যয়নপত্রে মালেকা বেগমকে মৃত দেখানো হয় এবং একই সঙ্গে প্রস্তাব দেওয়া হয় একই গ্রামের আব্দুল হাই (৭০) নামের এক ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনার।
কোনো সরেজমিন তদন্ত ছাড়াই সমাজসেবা অফিস জীবিত মালেকা বেগমকে মৃত দেখিয়ে তার স্থলে আব্দুল হাইয়ের নামে ভাতা চালু করে দেয়। বর্তমানে তিনি নিয়মিত ওই ভাতা পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য রুহুল আমীন বলেন, “ভুলবশত এমনটি হয়েছে। বিষয়টি এখন সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে মৃত দেখানো নারীকে আবার জীবিত হিসেবে সংশোধন করা যায়।”
নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান আকনন্দ বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমরা খোঁজ নিচ্ছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ওই বৃদ্ধার বিধবা ভাতা পুনরায় চালু করা হবে।”