মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি মার্কেট দখলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে আলমগীর (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮ জন। মঙ্গলবার (ভোর) সকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বালাসুর বাজার এলাকায় এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।
নিহত আলমগীর বালাসুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি তার বড় ভাই তমিজউদ্দীনের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় বালাসুর বাজারে ‘তমি মার্কেট’ নামে একটি বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। হান্নান হাজী গং ও তাদের সহযোগীরা জমিটির ওপর ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, মামলায় ব্যর্থ হয়ে তারা সম্প্রতি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা শুরু করে।
মঙ্গলবার ভোরে দেশীয় অস্ত্রসহ একদল সন্ত্রাসী নির্মাণাধীন মার্কেট দখলের চেষ্টা চালালে আলমগীর বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আরও কয়েকজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— তমিজউদ্দিন (৬৫), জাহাঙ্গীর (৫৫), তারেক (৩৫), তানসেল (২২), তুষার (২৪), আব্দুর রহমান (২৩)সহ আরও কয়েকজন। আহতদের প্রথমে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাসপাতালে নেওয়ার পর। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও প্রতিপক্ষের লোকজন আলমগীরের ওপর হামলা চালায়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিডফোর্ড) রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শংকর তান জানান, ভোরের দিকে দুই পক্ষের একাধিক আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসে। আলমগীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত রেফার করা হয়।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।