আজ ৩ ফেব্রুয়ারি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানের বিবাহবার্ষিকী। ১৯৯৪ সালের এই দিনে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সময়ের পরিক্রমায় নানা সংগ্রাম ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ তাদের দাম্পত্য জীবনের ৩২ বছর পূর্ণ হলো।
ডা. জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়ি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে। তার জন্ম ১৯৭২ সালের ১৮ জুন। তিনি সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা।
পারিবারিকভাবে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ভাতিজি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আইরিন খানের চাচাতো বোন।
রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ডা. জুবাইদা রহমান নিজেকে একজন ‘মেরিটোক্র্যাট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার বড় কারণ তার উচ্চশিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা এবং একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত ইমেজ। এসব কারণেই তিনি রাজনীতির বাইরেও স্বতন্ত্র পরিচিতি অর্জন করেছেন।
তার পিতা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারে তিনি যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। কে-৪৭ (K-47) ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি ১৯৯৫ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বছর ২১তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন, যা তার মেধা ও অধ্যবসায়ের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
২০০৮ সালে তারেক রহমানের চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি লন্ডনে যান। সেখানে অবস্থানকালে নিজের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রেখে ২০০৯–১০ শিক্ষাবর্ষে বিশ্বের খ্যাতনামা ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্সে ভর্তি হন এবং ২০১১ সালে এমএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের জন্য তিনি মর্যাদাপূর্ণ স্বর্ণপদকে ভূষিত হন।
হৃদরোগ বিষয়ে তার গবেষণা ও একাডেমিক কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। লন্ডনের চিকিৎসা মহলেও তার পেশাগত পরিচিতি সুদৃঢ় ও সম্মানজনক।
সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও দাতব্য চিকিৎসালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তারেক রহমান প্রতিষ্ঠিত ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে তিনি বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের পর দীর্ঘদিন সরকারি চাকরিতে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার তার স্বাস্থ্য ক্যাডার পদ বাতিল করে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই আদেশ পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া চলছে এবং তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাশে থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সহায়তা করছেন। চিকিৎসক পেশার পাশাপাশি তার এই সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজনীতিতে তার ভবিষ্যৎ ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ও সম্ভাবনাময় তরুণ মুখ হিসেবে ইতোমধ্যেই পরিচিতি অর্জন করেছেন।