বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের হাতে কাজ দাও, আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই। এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড আর এক হাতে মায়ের মর্যাদা লাঞ্ছিত করা কখনো চলবে না। রাখ তোদের ফ্যামিলি কার্ড, আমার মায়ের মর্যাদা আগে।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল-কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুবসমাজ ন্যায্য অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতেই আন্দোলনে নেমেছে। যারা এই দাবিকে উপেক্ষা করেছে, তাদের জন্য এর পরিণতি এড়ানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মায়ের মর্যাদায় আঘাত এলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”
যুবকদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তরুণদের বেকার ভাতা দিয়ে অসম্মানিত করা হবে না। বরং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের দেশের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজে সম্পৃক্ত করা হবে। ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্বে যুবসমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখতে চান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নারীর নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ঘর, পথ ও কর্মস্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নারীর মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত কোনো নির্দিষ্ট দলের জয়ের জন্য রাজনীতি করছে না; বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি ও কল্যাণের লক্ষ্যেই তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণ ছাড়া রাজনীতির কোনো অর্থ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ভোট জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটই বিজয়ী হবে।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত কোনো দলকে অপমান করার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে নিজ নিজ পথে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।
চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, এই বন্দর কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না। ভবিষ্যতে বন্দরকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো হবে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দেশ গড়ার কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।