গত দেড় বছর ধরে যারা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের এবার লাল কার্ড দেখাতে হবে—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম।
রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নীলফামারী সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবু সাদিক কায়েম বলেন, “যারা গত দেড় বছরে চাঁদাবাজি করেছে, টেন্ডার লুট করেছে এবং ভোটের সময় এসে রঙিন স্বপ্ন দেখাচ্ছে—তাদের ১২ ফেব্রুয়ারি লাল কার্ড দেখাতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “যারা মা-বোনদের বিবস্ত্র করার হুমকি দিয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সম্ভাবনাকে নষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও জনগণকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।”
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন—উত্তরবঙ্গকে কৃষিনির্ভর অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
এখানকার কৃষি সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশজুড়ে ৫০ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, দেশে বেকারত্বের হার বেশি। যারা বর্তমানে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত, তাদের সে পথ ছেড়ে সম্মানজনক কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে।
আবু সাদিক কায়েম বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের মাধ্যমে সবাইকে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিতে হবে। তার ভাষায়, “‘হ্যাঁ’ মানে বাংলাদেশ, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘হ্যাঁ’ মানে শহীদ ওসমান হাদির বিচার।” তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিলে শহীদ ওসমান হাদির লড়াইকে আইনি ভিত্তি দেওয়া সম্ভব হবে।
অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেউ কেউ দেড় বছর পর এসে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু যারা বাস্তবে কিছু করে দেখিয়েছে, জনগণ তাদেরই বিশ্বাস করবে। ভুয়া আশ্বাসে আর ভুল করতে চায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুর লতিফসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।