আগের তুলনায় চাঁদাবাজি বেড়েছে এবং পাথর–কয়লা খনি থেকে উত্তোলিত পাথরের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শ্রমিকরা—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সোমবার সকালে দিনাজপুরের স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত নির্বাচনী পথযাত্রা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পার্বতীপুর–ফুলবাড়ী অঞ্চলের মতো সম্পদসমৃদ্ধ এলাকাতেও জনগণকে আগের চেয়ে বেশি চাঁদা দিতে হচ্ছে। অথচ শ্রমিকরা তাদের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। লুটেরারা পাহাড়সম সম্পদ গড়ে তুলছে, আর সাধারণ মানুষ বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এ দেশের মানুষ শহীদ হাদীর মতো সাহসী ও ন্যায়নিষ্ঠ বাংলাদেশ চায়। তিনি ঘোষণা দেন, ১২ তারিখের পর ক্যাসিনো ও জুয়া বন্ধ করা হবে এবং এই অঞ্চলে আর কোনো চাঁদাবাজ ফ্যাসিস্টের জায়গা হবে না। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় যোগ্য প্রতিনিধিত্ব না থাকায় মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দিয়ে এলাকা সন্ত্রাসমুক্ত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
এনসিপির নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যেতে হলে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। তিনি শাপলা কলি প্রতীকে ও ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তার মতে, সঠিক ভোটের মাধ্যমে বৈষম্য দূর হবে এবং জনগণের জীবনমান উন্নত হবে। তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে শহীদ হাদী ও ফেলানী হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে। সীমান্তে অন্যায় গুলির জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, দিনাজপুর-৫ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত–এনসিপি ও খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. মো. আব্দুল আহাদকে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।
এ সময় প্রার্থী ডা. মো. আব্দুল আহাদ জনগণের সামনে তার নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেন। তিনি এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকার সমস্যা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াত নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মনিরা শারমিন, কেন্দ্রীয় যুব শক্তির তরিকুল ইসলাম, আবু সাইদ মিলন, ডেভিট রাজু ও ফয়সাল শান্ত। সভা পরিচালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম।