আব্দুল্লাহ আল মামুন, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নিখোঁজের সাত দিন পর শিশু মারিয়া মিম (৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের সামনে আজাদী কালচারাল সেন্টার নামে একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, সাত দিন আগে নিখোঁজ হওয়া একটি নিষ্পাপ শিশুকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এই বর্বর হত্যাকাণ্ড সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর বারইপাড়া এলাকার নান্নু মিয়া দপ্তরীর একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে বস্তাবন্দি ও অর্ধগলিত অবস্থায় শিশু মারিয়া মিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রবিউল ইসলাম রাফি (২২) ও সুমন (৩০) নামে দুই তরুণকে আটক করা হয়েছে। আটক রাফি রহিম মিয়ার ছেলে এবং সুমন ময়ান মিয়ার ছেলে। তারা একই এলাকার বাসিন্দা। আটক সুমন বিবাহিত এবং কয়েক সন্তানের পিতা।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিন আগে শিশু মারিয়া নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে তার পিতা উজ্জল মিয়া ধনবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
রোববার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় কয়েকজন পথচারী পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুর পিতা উজ্জল মিয়া ও মাতা জবেদা বেগম মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহত মারিয়ার খালাতো ভাই মোহাম্মদ জুবায়ের হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষণের পর মারিয়াকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে ওই পরিত্যক্ত ঘরে ফেলে রাখা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তিনি হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন।
এদিকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের পর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা জবেদা বেগম। সন্তানের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
ধনবাড়ী থানা পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।