মহরম গাজী,(মাহিম) খুলনা
বিএনপির চেয়ারপারসনের পুত্র, তারেক রহমান, দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনার মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন। তার আগমনের খবরে খুলনার সর্বস্তরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। দলটির লক্ষ্য, সমাবেশে আট লাখ মানুষের সমাগম ঘটানো এবং দক্ষিণাঞ্চলে দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় খুলনার খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এদিনের সমাবেশটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক সমাবেশ হিসেবে পরিচিত হতে যাচ্ছে।
বিএনপি নেতাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাবেশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী আলি আসগর লবিসহ মহানগর ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশ সফল করতে কয়েকটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সমন্বয়, আবাসন, শৃঙ্খলা, মিডিয়া ব্যবস্থাপনা, এবং প্রচারণা কার্যক্রম। ঢাকা থেকে বিশাল মঞ্চ এবং আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম আনা হচ্ছে, এবং মাঠের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষা করতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সভা শুরু হয়েছে। নগরী ও জেলায় প্রচার মাইকিংও শুরু হয়েছে।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা বলেন, “তারেক রহমানের খুলনা আগমন কেবল একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়, এটি আমাদের জন্য সাহস, আত্মবিশ্বাস ও মনোবল ফিরে পাওয়ার মুহূর্ত। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের জন্য এই সফর হবে নতুন প্রেরণার উৎস। ২২ বছর পর প্রিয় নেতাকে নিজের শহরে দেখতে পাওয়া আমাদের কাছে আবেগ, গর্ব ও সম্মানের।”
তিনি আরও জানান,খুলনা ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই সফর বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং ভোটারদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
এদিকে, জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত ২০০৪ সালে সর্বশেষ খুলনায় এসেছিলেন তারেক রহমান।