জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “বলা হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাজের পর ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, তাহাজ্জুদের পরই তারা সিল মারার পরিকল্পনা করছে।”
সোমবার রাত ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি এনসিপির প্রার্থী মাহবুব আলম–এর পক্ষে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “একটি দল অন্য সব দলকে কার্যত বিলুপ্ত করে নিজের ভেতরে টেনে নিয়েছে। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা এসব ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই সফল হতে দেবে না।”
তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা যেন উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকবেন। যারা ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করবে বা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড জনগণের সঙ্গে প্রতারণার অংশ। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের মূল সংকট ফ্যামিলি কার্ড নয়। প্রকৃত সংকট হলো অর্থনীতিকে চাঙা করা, ঋণখেলাপি ও লুটেরাদের বিচারের আওতায় আনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা।” এসব লক্ষ্য সামনে রেখেই এনসিপি তাদের পরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, এনসিপি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচনের সময় ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন এবং ভোটের দিন সবাইকে ভোটকেন্দ্রে আনতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ারও আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।
তার মতে, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য নয়; এটি রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার নির্বাচন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ১০ দল থেকে ১১ দলে পরিণত হয়েছি। এই ঐক্য আরও বিস্তৃত হবে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে দেশপ্রেমিক ও ইসলামপ্রেমিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে—দেশ রক্ষা ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য।”
সমাবেশে রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হাসান পাটোয়ারী–এর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম।