মহরম হাসান মাহিম,খুলনা
খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,
ক্ষমতায় গেলে দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করতে চাই না, আমরা তাদের হাতে কাজ দিতে চাই। চাকরির মাধ্যমে যুব সমাজকে সম্মানিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা মহানগরী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। দুপুর ২টা থেকেই জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। সমাবেশকে ঘিরে নগরীতে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই সার্কিট হাউস মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সরকারের ভুলনীতি, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে খুলনার শিল্প ও কৃষি খাত ধ্বংস হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যুব সমাজ বেকারত্বের মুখে পড়েছে। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে বন্ধ মিল-কারখানা চালু করা হবে এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমীর বলেন, “একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে।
” তিনি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখুন। সহিংসতার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “এখন মাঘ মাস, এখনই যদি মাথা গরম থাকে, তাহলে চৈত্র এলে কী করবেন?”
তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটারের ভোটাধিকার রক্ষায় পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি আজ শুধু জামায়াতের পক্ষে কথা বলতে দাঁড়াইনি। আমি সেই সব মা-বোন, শিশু ও পরিবারের পক্ষে কথা বলতে দাঁড়িয়েছি, যারা গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনের শিকার হয়েছেন।” আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মাধ্যমে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়া হয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, সন্ত্রাস, গুজব ও মিথ্যার মাধ্যমে কেউ আর জোর করে ক্ষমতায় যেতে পারবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। আগামী নির্বাচনে জামায়াত ক্ষমতায় এলে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের বিজয়ের পর চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের একটি উদাহরণ।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং খুলনার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা। জনসভার শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং ইসলামী সংগীত পরিবেশন করা হয়।