জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, যারা ন্যূনতম জ্ঞান ও শিক্ষা ছাড়াই মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তারা মূলত নতুন করে স্বৈরাচার কায়েম করতে চায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এই বাংলাদেশে আমরা কাউকেই নতুন করে স্বৈরাচার হতে দেব না।”
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে প্রচারণা ও উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি প্রত্যন্ত গ্রামের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন।
গণভোট প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা ’৭১ থাকবে না—এ ধরনের বক্তব্য যারা দিচ্ছে, আমরা মনে করি তাদের ন্যূনতম জ্ঞান ও শিক্ষা নেই। সংস্কারের পক্ষে না থেকে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, তারা আসলে নতুন করে স্বৈরাচার হতে চায়। কিন্তু এই বাংলাদেশে কাউকে নতুন করে স্বৈরাচার হতে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভুলে গেলে চলবে না—এই নতুন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি এক হাজারেরও বেশি শহীদের জীবনের বিনিময়ে। অসংখ্য মানুষ এখানে রক্ত দিয়েছে। এর মূল কারণ ছিল, দেশের মানুষ সংস্কার ও পরিবর্তন চেয়েছিল।”
সারজিস আলম বলেন, “এই সংস্কার বাস্তবায়ন হবে জুলাই সনদের মাধ্যমে। আর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে হবে। যারা নতুন করে ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচার হতে চায়, তারাই চায় না এই গণভোট বাস্তবায়ন হোক।”
তিনি দাবি করেন, “বাংলাদেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে যদি আমরা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাগুলোর সংস্কার করতে চাই এবং জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয়ের মাধ্যমেই জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে ১১ দলীয় জোট ও শাপলা কলি প্রতীক বিজয়ী হয়ে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।