রাজধানীর চানখারপুলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছয়জন হত্যার মামলায় ঘোষিত রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রায় ঘোষণার পর সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যেসব আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তাদের কয়েকজনকে সীমিত সাজা দেওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট নয়। তিনি জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। তার মতে, সীমিত সাজা ন্যায়বিচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাজুল ইসলাম বলেন, কনস্টেবল মো. সুজন গুলি চালানোর সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও তিনি যেহেতু একজন অধস্তন পুলিশ সদস্য ছিলেন এবং ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ পালন করেছেন—এই বিবেচনায় আদালত তাকে সীমিত সাজা দিয়েছেন।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আদালতের এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—কোনো বেআইনি আদেশ মানতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাধ্য নন। বেআইনি আদেশ পালন করলে আদালতে কোনো ছাড় পাওয়া যাবে না।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার–এর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং সাবেক এডিসি (রমনা) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম–কে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়া রমনা জোনের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল–কে ৬ বছর, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন–কে ৪ বছর এবং কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম–কে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পর্যালোচনা শেষে দ্রুত উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।