পটুয়াখালীর বাউফলে দুধ দিয়ে গোসল করে প্রতীকী ‘শুদ্ধি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিএনপি ত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন জালাল হাওলাদার নামে এক বিএনপি নেতা। এ সময় তার সঙ্গে প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকও দলটিতে যোগ দেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে বাউফল উপজেলার বগা বাজার এলাকার বগা প্রাইমারি স্কুল মাঠে আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ–এর উপস্থিতিতে দুধ দিয়ে গোসল করে বিএনপি ত্যাগের ঘোষণা দেন জালাল হাওলাদার।
জালাল হাওলাদার বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। তার সঙ্গে যারা জামায়াতে যোগ দেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—বগা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য আবুল কালাম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য এস এম আমিনুল ইসলাম,
বগা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সিনিয়র সহসভাপতি জামাল খান, বগা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক শরীফসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক।
যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের পর একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’, সংস্কার ও বিচার—এই অবস্থান জনগণের কাছে ইতিবাচক হওয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে নেতাকর্মীরা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিচ্ছেন। তিনি নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বাউফলে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দলত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে জালাল হাওলাদার বলেন, শৈশব থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল হয়ে দীর্ঘদিন মৎস্যজীবী দলে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাদের মূল্যায়ন করেননি।
বরং আওয়ামী লীগের লোকজন দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করছেন—এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ কারণে হতাশ হয়ে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নেতৃত্বে বাউফলের উন্নয়ন হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাউফল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. তসলিম তালুকদার বলেন, কেউ দলীয় পদে থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকে বাউফলের বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিচ্ছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।