এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, সুযোগ বুঝে যারা দেশে ফিরে আসছেন, নির্বাচনের পর তারা আবার বিদেশে পাড়ি জমাবেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পাবলিক মাঠে পটুয়াখালী-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়া নিয়ে একসময় অনেক দল আন্দোলন করলেও বর্তমানে সেই বন্দরই সর্বোচ্চ আয় করছে। তিনি বলেন, “আপনারা একদিকে বন্দর বিদেশিদের দিতে চান না, আবার অন্যদিকে প্রবাসীদের এনে সংসদে বসাতে চান—এটি স্পষ্ট দ্বিমুখী নীতি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঋণখেলাপিরা দেশের ব্যাংক লুট করে বিদেশে ‘বেগম পাড়া’ গড়ে তুলছে, অথচ দেশের তরুণরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। তার ভাষায়, “সুযোগ বুঝে যারা দেশে আসছেন, নির্বাচনের পর তারাই আবার বিদেশে চলে যাবেন।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি চলছে। “অনেকে বলছে, নির্বাচন হলে দেখে নেবে, বাড়ি থেকে ব্যালট ছাপিয়ে ভোট দেবে। তাহলে কি তরুণ প্রজন্ম চুপ করে বসে থাকবে? যে তরুণ প্রজন্ম কাউকে ভয় করেনি, তাকে পুলিশ বা মিলিটারি দিয়ে দমন করা যাবে না,”—বলেন তিনি।
আগামী ১২ তারিখে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, ভোট দিয়ে ফলাফল নিশ্চিত করে সবাই যেন বাড়ি ফিরে আসে।
তিনি বলেন, কোনো চাঁদাবাজ বা টেন্ডারবাজের হাতে ভোটকেন্দ্র ছেড়ে দেওয়া যাবে না এবং নারীদের সকালেই ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। “আমরা মায়েদের সঙ্গে নিয়েই ভোটকেন্দ্র পাহারা দেব, যেন সবাই নিরাপদে ভোট দিতে পারে,”—যোগ করেন তিনি।
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “২০২৪ সাল থেকে যদি আপনারা শিক্ষা না নেন, যদি পুরোনো ছকে নির্বাচনে ফিরে যান বা গুলশানের দিকে লাইন দেন, তরুণ প্রজন্ম আপনাদের ছাড়বে না। ভোট ছিনতাই করলে পরিণতি হারুন ও বেনজীরের মতো হবে।”