দেশের সব সেক্টরে নারীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে নারীদের দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং এতে কোনো ক্ষেত্রেই বৈষম্য থাকবে না।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রংপুর টাউন হল চত্বরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গর্বের বাংলাদেশ গড়তে যোগ্যতা অনুযায়ী নারীদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে। নির্বাচন সামনে রেখে আমরা কোনো মিথ্যা আশ্বাস দেব না। দেশের প্রত্যেক সেক্টরেই নারীরা কাজ করবেন।”
তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী বেকার ভাতা দেওয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তার ভাষায়, “আমরা ভাতা নির্ভর সমাজ চাই না; কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানুষকে স্বাবলম্বী করতে চাই।”
দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দুর্নীতি করা যাবে না এবং করতে দেওয়া হবে না। বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা হবে এবং অর্থের বিনিময়ে নয়, ন্যায়ের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, “৫৪ বছরের পচে যাওয়া রাজনীতি আর দেখতে চাই না। ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিনির্ভর রাজনীতি আমরা প্রত্যাখ্যান করি।”
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে জাতি সর্বহারা হয়ে পড়েছে। দেশের উন্নয়নের নামে সিঙ্গাপুর ও কানাডার উদাহরণ দেওয়া হলেও বাস্তবে ব্যাংক লুট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে ওই দেশগুলোতেই সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। কানাডায় ‘বেগমপাড়া’ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যাদের হাতে মা-বোনদের সম্মান নিরাপদ ছিল না, তারাই নিজেদের মানবতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিল।” তিনি নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে প্রতীক বাতিল এবং অতীতে ১১ জন শীর্ষ নেতা হত্যার অভিযোগও তুলে ধরেন।
রংপুরবাসীর প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, এখানকার মানুষ শিক্ষিত ও ভদ্র। তিনি বলেন, রংপুরের মানুষ নিজেদের দাবিও খুব কমই তুলে ধরে, অথচ তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। তিস্তা নদীর ওপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আশ্বাস দেন, দায়িত্ব পেলে উত্তরবঙ্গ থেকেই উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে। “উত্তরবঙ্গের মাটিতে প্রথম কোদালের কোপ পড়বে। জায়গায় জায়গায় শিল্পকারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে,”—বলেন জামায়াত আমির।