মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর প্রতিনিধি :
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহম্মদ তৈয়্যব বলেছেন, কোন প্রধানমন্ত্রী যাতে ফ্যাসিস্ট না হতে পারে সেজন্য গণভোটের কোন বিকল্প নেয়। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী সকলকে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে মেহেরপুর আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার উদ্বোধানকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
তিনি আরো বলেন, বিগত দিনে যে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন তাঁর হাতেই ক্ষমতা ছিলো। তিনিই সংসদীয় নেতা, সরকার প্রধান, মন্ত্রী পরিষদ নেতা, বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন। বিচার বিভাগের উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তাঁর হাত ধরেই নিয়াগ হন প্রধান বিচারপতি ও সংসদে আইনও পাশ করা হয়।
তাঁর ইচ্ছার বাইরে গিয়ে পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, দুদক কেউ্ই কাজ করতে পারেনা। ফলে বার বার ফ্যাসিস্ট ফিরে আসে। এজন্য এই দেশে ক্ষমতার ভারসম্য, ক্ষমতার বিকেকন্ত্রীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক স্¦ক্ষমতা দরকার।
তিনি আরো বলেন আমাদের দেশের সরকারের প্রধান দু’টি সমস্যা। একটি হলো প্রতিষ্ঠাগুলো সবচাইতে দূর্বল, রাজনৈতিক কতৃত্ববাদের বিপরিতে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেননা।
অন্যটি হলো আমাদের প্রশাসন স্বজনপ্রীতি ও দূর্ণীতিতে আচ্ছন্ন। এ অবস্থায় বিচার বিভাগকে ক্ষময়ায়ীত না করি, শাসন বিধান, বিচার বিভাগ ও সংসদ এই তিনটিকে আলাদা করতে না পারি।
তাহলে ব্যাক্তি প্রধান মন্ত্রীর পিএস, তার ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা, মন্ত্রনলায়ের মন্ত্রী ও সচিবের চাইতে বেশি মাত্রায় ক্ষমতাবান হয়ে যায়। এই কুফলগুলো থেকে যদি বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হয় তাহলে হ্যাঁ ভোটের কোন বিকল্প নেয়। ফলে প্রতিবারই যে প্রধানমন্ত্রী হন সে স্বৈরাচর হয়ে যায়। এভাবে ৫৪ বছর ধরে একাধীক স্বৈরাচর আমরা দেখেছি।
সূতারং জুলাই গণ অভ্যূত্থানে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ দেওয়ার পরও ব্যাক্তি প্রধাননমন্ত্রী যাতে আবারও স্বৈরাচারী না হয়ে উঠতে পারে সেজন্য পরিবর্তনের পক্ষে হ্যাঁ ভোটের কোন বিকল্প নেয়।
একই অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার বলেছেন, যে দৃষ্টি নন্দন আইটি পার্ক নির্মিত সেখানে যেন ছবি তরুণরা তোলাই ব্যাস্ত না থাকে। এটিকে কাজে লাগিয়ে আইটি বিসয়ক বিবিন্ন প্রশিক্ষনের মাধ্যমে নিজেদেরকে দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
শুধু নিজ দেশেই নয়, আইটির উপর জ্ঞান লাভ কওে অবদান রাখতে হবে বর্হিবিশ্বেও। কৃষি নির্ভও এ জেলায় আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষির মান উন্নয়ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল হাসান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য মেখ বখতিয়ার উদ্দীন, জেলা প্রশাসক সেয়দ এনমুল কবির, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
আইটি ট্রেনিং ইএকিউবেশন সেন্টার স্থান ২য় সংশোধীত প্রকল্পের আতায় ৬৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ১০ হাজার টাকা ব্যায়ে নির্মিত হচ্ছে এই আইটি পার্ক।