ঢাকা ছয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন,
আজীবন জনগণের পাশে থেকে তাদের সেবা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
তিনি বলেন,
জনপ্রতিনিধি হিসেবে জবাবদিহিতা বজায় রেখে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা হবে এবং নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে এলাকার সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করা হবে।
মঙ্গলবার জানুয়ারি বিশ তারিখ রাজধানীর আর কে মিশন রোডের নীড় ছায়াবীথি এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, তার রাজনীতির প্রধান প্রেরণা তার বাবা, যিনি তার রোল মডেল এবং হিরো। তিনি যেভাবে আজীবন জনগণের পাশে ছিলেন, সেভাবেই নিজের জীবন জনগণের সেবা ও দেশের কল্যাণে উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন,
‘নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা নানা কথা বলে ভোটার আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। কিন্তু চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশের জনগণকে শুধু কথার ফুলঝুরি দিয়ে বোকা বানানো সম্ভব নয়। চব্বিশ সালের রক্তাক্ত গণ অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া, যেখানে রাজনীতির কলুষিত অংশ থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দেশের ও জাতির কল্যাণ সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে।’
ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেন, গত সতেরো বছরে মেগা প্রকল্প ও উন্নয়নের কথা বলা হলেও ঢাকার যানজট, দূষণ, জলাবদ্ধতা, মশাবাহিত রোগ এবং গ্যাস সংকটের মতো মৌলিক সমস্যা অক্ষুণ্ণ রয়ে গেছে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমন মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হবে না। বরং সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হবে, প্রয়োজনে সেগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে।
নাগরিক অধিকার ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকার প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট শতাংশ মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এখানে কেউ মাইনরিটি নয়, সবাই বাংলাদেশি। ধর্ম, বর্ণ, ধনী গরিব নির্বিশেষে এই দেশ সবার, এমন বাংলাদেশ গড়াই বিএনপির লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
ভোট প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, প্রত্যেক মহিলা কেন্দ্রে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োজিত থাকবেন। পরিচয় যাচাইয়ের পর ব্যালট ইস্যু করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এই আসনে একান্ন দশমিক ছয় শতাংশ ভোটার নারী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি চায় আরও বেশি নারী রাজনৈতিক, সামাজিক ও মতবিনিময়মূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিক। নারীর সমান অধিকারে দলটি শতভাগ বিশ্বাস করে এবং বাস্তব কাজের মাধ্যমেই তা প্রমাণ করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ারী থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ আরিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক মুক্তাসহ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।