আগামী বারো ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন,
‘অতীতের মতো কোনো নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং আমরা দেখতে চাই না। এটি আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না, ইনশা আল্লাহ। যেকোনো ধরনের কারচুপি, ভোট ডাকাতি ও ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান থাকবে স্পষ্ট।’
বৃহস্পতিবার জানুয়ারি পনেরো তারিখ রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীসহ এগারোটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের মুখ্য বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন,
‘আগামী বারো ফেব্রুয়ারির নির্বাচনটা জনগণের আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন ও সুষ্ঠু নির্বাচনে পরিণত হোক। সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি সোনালি সমাজ বিনির্মাণের নতুন অধ্যায় রচনা হোক।’
তিনি বলেন, দেশের যে যুবসমাজ তিনটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বয়স হওয়া সত্ত্বেও একটি ভোটও দিতে পারেনি, তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই এই ঐক্যের অন্যতম লক্ষ্য। যুবসমাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তোমাদের ভোট তোমরা দেওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে আসবা এবং তোমাদের ভোটের হিসাব নিয়ে তোমরা ঘরে ফিরবা। আমরা তোমাদের সঙ্গে থাকব, ইনশা আল্লাহ।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ চুয়ান্ন বছরের রাজনীতির ঘুণে ধরা অবস্থা থেকে জাতিকে মুক্ত করতেই এগারোটি দল একত্র হয়েছে। তিনি বলেন,
‘আমরা পুরোনো সেই রাজনীতি আর চাই না, যে রাজনীতি ফ্যাসিবাদ হয়ে জাতির ঘাড়ে চেপে বসে। খুনের রাজনীতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির রাজনীতি আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা সত্যিকার অর্থেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং বিশেষভাবে তরুণদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
জনগণের সমর্থন চেয়ে জামায়াত আমির বলেন,
‘আপনারা যে পরিবর্তন চান, সেই পরিবর্তন করার দায়িত্ব নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি। আমরা আশা করব, আপনারা সবকিছু দিয়ে আমাদের পাশে থাকবেন এবং জনগণের বিজয় নিশ্চিত করবেন।’
এই নির্বাচনী ঐক্য গঠনে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন,
‘জাতির টার্নিং পয়েন্টগুলোতে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন, আমরা সবাইকে স্মরণ করছি। আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই আমরা এই ঋণ পরিশোধ করতে চাই।’
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সে ছিল বাংলাদেশের জনগণের জীবন্ত কণ্ঠ। তাকে কারা হত্যা করেছে, জনগণ তা বোঝে। আমরা তার হত্যার বিচার চাই। এই বিচার নিশ্চিত হলে জাতির জন্য জীবন উৎসর্গে আরও অনেকে এগিয়ে আসবে।’
সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এরপর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদ বীর বিক্রম ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বক্তব্য দেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজী, বিডিপির সভাপতি এ কে এম আনোয়ারুল হক ও জাগপার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ প্রধান।