শাহরিয়ার আহমেদ শাওন
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘল বাক ইউনিয়নের কামার গাঁও গ্রামে এক প্রভাবশালী কর্তৃক কাজের বুয়া ( গৃহ পরিচারিকা) স্বপ্না বেগম (৩৩) নামের এক অসহায় নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ প্রভাবশালীর ধর্ষনের ফলে এই নারী পরবর্তীতে গর্ভবতী হয়ে ১টি সন্তান প্রসব হলে এনিয়ে এলাকায় তুলপাড় সৃষ্টি হয়৷
এ ঘটনার সুবিচার প্রার্থী হয়ে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল -৩ আদালতে স্বপ্না বেগম বাদী হয়ে গত ১৬ নভেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন৷ পিটিশন মামলা নং ১৫৯/২০২৫
উক্ত মামলাটি বিজ্ঞ আদালত আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেনশন ( পিবিআই) হবিগঞ্জকে ০৭ (সাত) কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেছেন৷ মামলার এজাহারে উল্লেখ ও নির্যাতিত স্বপ্না বেগম জানান, তিনি উপজেলার কামারগাঁও ( আশার বন) গ্রামের সামছুদ্দিন মিয়ার মেয়ে৷ তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ জীবিকার তাগিদে মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন৷
তিনি শারিরীক ও মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন অসহায় মহিলা এবং কামারগাঁও গ্রামের প্রভাবশালী মুর্শেদ আহমেদ চৌধুরী মুর্শিদ এর বাড়িতে গৃহ পরিচারিকার কাজ করতেন৷ এরই সুবাদে বিগত ১২ অক্টোবর ২০২২ ইং তারিখ হইতে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ ও সময়ে স্বপ্না বেগমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন মুর্শেদ আহমেদ চৌধুরী মুর্শিদ৷
এর প্রতিবাদ করলে তাকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিতেন মুর্শিদ৷ এতে নীরবেই সহ্য করে একপর্যায়ে স্বপ্না গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় মুখরোচক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়৷ একপর্যায়ে অন্তসত্বা স্বপ্না বেগমকে স্থানীয় দীঘলবাক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে গত ১৬ নভেম্বর ২০২৩ ইং তারিখে উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যারা মেডিক্যাল অফিসার রুমা বেগমের চিকিৎসার মাধ্যমে তার একটি কন্যা সন্তান প্রসব হয়৷
শিশু কন্যার নাম রাখা হয় হালেমা বেগম মুর্শেদা, এসময় সরকারি উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্ট্রারে উক্ত কন্যা সন্তানের পিতা হিসেবে আসামী মুর্শেদ আহমেদ চৌধুরী মুর্শিদ এর নাম লিপিবদ্ধ ও রয়েছে৷
এই আলোচিত সমালোচিত ঘটনার পর বারংবার মুর্শেদ আহমেদ চৌধুরী মুর্শিদকে স্ত্রী সন্তানের স্বীকৃতি ও মর্যাদা পেতে চাপ প্রয়োগ করলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দেখিয়ে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায় ৷
প্রভাবশালী মুর্শিদ ও তার লোকজন৷ অবশেষে নিরুপায় হয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি৷ এর পর থেকে বিভিন্নভাবে তাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে৷ এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই অসহায় নারী স্বপ্না বেগম৷