সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
বাংলাদেশের মানচিত্রের ভেতরে থেকেও একসময় যেখানে পৌঁছানো ছিল এক দুঃসাধ্য ব্যাপার, সেই দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা এখন পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য।
২০১১ সালের ১৯শে অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে তিন বিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টা উন্মুক্ত ঘোষণার পর থেকেই এই জনপদে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া, বদলে গেছে স্থানীয়দের জীবনযাত্রা।
২০১১ সালের পূর্বে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলবাসীর জন্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ছিল এক স্বপ্নের মতো। সেখানে ছিল না কোনো মানসম্মত হাসপাতাল কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
করিডোর উন্মুক্ত হওয়ার দিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দহগ্রামে একটি ১০ শয্যার হাসপাতাল এবং দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ ভবন উদ্বোধন করেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সেবা এখন এই জনপদের মানুষের হাতের নাগালে।
আয়তনে খুব বেশি বড় না হলেও দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা গ্রাম দুটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো। এই অঞ্চলের পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে তিস্তা নদী। নদীর ওপাড়ে তাকালেই চোখে পড়ে ভারতীয় ভূখণ্ড।
কোনো কাঁটাতারের বিভেদ ছাড়াই দুই দেশের মানুষকে একই নদী শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করতে দেখা যায় এখানে, যা সীমান্ত এলাকায় এক অনন্য ভ্রাতৃত্বের উদাহরণ।
বাস যোগে ঢাকা, রংপুর বা লালমনিরহাট জেলা সদর থেকে সরাসরি বাস যোগে পাটগ্রাম যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে হানিফ বা শাহ আলী পরিবহনের বাস নিয়মিত লালমনিরহাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
ট্রেন যোগে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে শুক্রবার বাদে সপ্তাহের ৬ দিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ ছেড়ে যায়। লালমনিরহাট পৌঁছে সেখান থেকে ট্রেন বা বাসে পাটগ্রাম যেতে হবে। এছাড়া রংপুর ও লালমনিরহাট থেকে প্রতিদিন ৫টি ট্রেন পাটগ্রামের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করে।
পাটগ্রাম সদর থেকে তিন বিঘা করিডোরের দূরত্ব মাত্র ৯ কিলোমিটার। পাটগ্রাম থেকে যেকোনো সময় রিকশা বা টেম্পু যোগে সহজেই করিডোরে পৌঁছানো যায়।
ইতিহাস আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন দেখতে ঘুরে আসতে পারেন লালমনিরহাটের এই অনন্য জনপদ থেকে।