আইনি কোনো বাধা না থাকায় গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রোববার জানুয়ারি এগারো তারিখে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, আইনি দিক যাচাই করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির কাজ চলবে।
প্রেস সচিব জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইয়ার ইয়াবস প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে গণভোট নিয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাতকালে প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, ‘হ্যা’ ভোটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ক্যাম্পেইন করছে ও করবে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করবে। তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে আইনি পরামর্শ নিয়েছে এবং শীর্ষ আইন বিশেষজ্ঞরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ‘হ্যা’ ভোট চাইতে কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই।
শফিকুল আলম বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষক দলের প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আওয়ামী লীগ বিষয়ে বা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। গণভোট নিয়েই মূলত কথা হয়েছে। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রিফর্ম এজেন্ডা বাস্তবায়ন হবে। মিশন প্রধান আরও বলেন, তাদের পর্যবেক্ষক মিশন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং তারা সব জায়গা মনিটর করবে। পাশাপাশি বড় বড় রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলবে।
প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে প্রেস সচিব জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট খুব সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে। তিনি বলেছেন, এটি হবে ‘ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল, পিসফুল’ এবং একটি ‘ফেস্টিভ ইলেকশন’। প্রধান উপদেষ্টার মতে, অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে, যাতে প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।