মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

পাঁচ ছাত্র-সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক ক্যানভাস বিশ্লেষণ

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি দীর্ঘ অচলায়তন ভেঙে দেশের প্রধান পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত ডাকসু, রাকসু, চাকসু, জাকসু ও জকসু নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং এটি সমসাময়িক ছাত্র রাজনীতির গতিপ্রকৃতি এবং শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের একটি সুস্পষ্ট দলিল। ফলাফলের সামগ্রিক ক্যানভাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্যানেলের নিরঙ্কুশ আধিপত্য দেখা গেলেও, ব্যালট পেপারে শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছেন তারা অন্ধ […]

পাঁচ ছাত্র-সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক ক্যানভাস বিশ্লেষণ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৪৬

রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি

দীর্ঘ অচলায়তন ভেঙে দেশের প্রধান পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত ডাকসু, রাকসু, চাকসু, জাকসু ও জকসু নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং এটি সমসাময়িক ছাত্র রাজনীতির গতিপ্রকৃতি এবং শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের একটি সুস্পষ্ট দলিল।

ফলাফলের সামগ্রিক ক্যানভাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্যানেলের নিরঙ্কুশ আধিপত্য দেখা গেলেও, ব্যালট পেপারে শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছেন তারা অন্ধ আনুগত্যের চেয়ে সচেতন বিচার-বিবেচনাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

নির্বাচনী ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট ১২৩টি পদের মধ্যে ১০৩টিতেই (৮৩.৭৩%) জয়লাভ করে শিবির প্যানেল ক্যাম্পাসে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তির শক্তিমত্তা জানান দিয়েছে। তবে আস্থার এই চিত্র সব ক্যাম্পাসে একরকম নয়। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চাকসু) শিক্ষার্থীদের রায় ছিল সবচেয়ে একমুখী।

সেখানে ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতেই (৯২.৩০%) জয়ী হয়ে সংগঠনটি তাদের নিরাপদ ঘাঁটি নিশ্চিত করেছে। এরপরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাকসু) অবস্থান, যেখানে ২৩টির মধ্যে ২০টি (৮৬.৯৬%) পদ তাদের দখলে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডাকসু) ২৮টির মধ্যে ২৩টি (৮২.১৪%) পদ পেয়ে তারা তাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছে।

তুলনামূলকভাবে জাহাঙ্গীরনগর (জাকসু) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জকসু) ভিন্নমতের উপস্থিতি লক্ষণীয়। জাকসুতে ৮০% এবং জকসুতে ৭৬.১৯% পদে শিবির জয়ী হলেও, প্রায় ২০-২৪ শতাংশ পদে সাধারণ শিক্ষার্থী বা অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। যা স্পষ্টত এই দুই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছে।

শীর্ষ পদের মনস্তত্ত্বে ব্যক্তিগত ইমেজ বনাম দলীয় প্রতীক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে লক্ষ্য করা যায়, শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক ক্যানভাসের সবচেয়ে বিচিত্র ও পরিণত রূপ দেখা গেছে শীর্ষ তিন পদের (ভিপি, জিএস, এজিএস) নির্বাচনে। এখানে ভোটাররা কোথাও মার্কা আবার কোথাও প্রার্থীর যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

১. ডাকসুর অন্তর্দৃষ্টি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিপি, জিএস ও এজিএস তিনটি শীর্ষ পদেই শিবির জয়ী হলেও ভোটের পরিসংখ্যানে শিক্ষার্থীদের সূক্ষ্ম বিচারবোধ স্পষ্ট। ভিপি পদে সাদিক কায়েম যেখানে প্রায় ৪৮% (৪৭.৯৯%) ভোট পেয়েছেন, সেখানে জিএস পদে এস এম ফরহাদ পেয়েছেন প্রায় ৩৭% (৩৬.৮৯%) ভোট। একই প্যানেলের হলেও ভিপি ও জিএস প্রার্থীর মধ্যে ভোটের এই ১১ শতাংশ ব্যবধান প্রমাণ করে, ঢাবিতে শিক্ষার্থীরা ঢালাওভাবে প্যানেলে ভোট দেননি; বরং পদের গুরুত্ব ও প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা বিচার করেছেন।

২. রাকসুর বৈপরীত্য: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিপি পদে মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ৬২.৮৪% ভোট পেয়ে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ জনপ্রিয় নেতা হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। অথচ একই প্যানেলের জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা ২৮.৩৭% ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীরা ভিপি পদে একজনকে বেছে নিলেও জিএস পদে অন্য মতের প্রার্থীকে যোগ্য মনে করেছেন।

৩. জাকসুর উল্টো চিত্র: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ভিপি পদে শিবিরের প্রার্থী মাত্র ২৯.৮৮% ভোট পেয়ে পরাজিত হলেও, জিএস পদে মাজহারুল ইসলাম ৪৯.১০% ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

৪. চাকসুর একমাত্র ক্ষত: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট পদের ৯২ শতাংশ জিতলেও এজিএস পদে তাদের প্রার্থী সাজ্জাত হোছন মুন্না ২৮.৪৮% ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এটি প্রমাণ করে, একচেটিয়া আধিপত্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট পদে যোগ্যতর বিকল্প পেলে তাকেই বেছে নেন।

৫. জকসুর স্থিতিশীলতা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের রায় ছিল সবচেয়ে সুসংহত ও স্থিতিশীল। এখানে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম ৫১.১৪% এবং জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ ৫০.৩৭% ভোট পেয়েছেন। শীর্ষ দুই নেতার প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ১ শতাংশেরও কম। এটি প্রমাণ করে, জকসুতে শিক্ষার্থীরা ব্যক্তি ইমেজের চেয়ে প্যানেলের ওপর সামগ্রিক আস্থা রেখেছেন এবং তাদের ভোট ব্যাংক অটুট ছিল।

নির্বাচন পরবর্তী বিশ্লেষণে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ থেকে পরিলক্ষিত হয় যে, এই ফলাফলের মনস্তাত্ত্বিক বার্তাটি খুব গভীর। জকসুতে স্থিতিশীল ভোটব্যাংক দেখা গেলেও, ডাকসুতে ভোটের তারতম্য এবং রাকসু-জাকসুর মিশ্র ফলাফল প্রমাণ করে আধুনিক শিক্ষার্থীরা মার্কার চেয়ে মেধা ও ব্যক্তি ইমেজকে বেশি মূল্যায়ন করেন। তারা নেতৃত্ব নির্বাচনে অনেক বেশি কৌশলী।

তুলনামূলক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সর্বমোট ১২৩টি পদের মধ্যে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলগুলো ১০৩টি পদে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। যা মোট পদের ৮৩.৭৩ শতাংশ। বিপরীতে ১৬.২৭ শতাংশ পদ নিশ্চিত করে ২০টি পদে জয় লাভ করেছে ছাত্রদলসহ অন্যান্যরা।

সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯২.৩০% পদে জয়যুক্ত করে শিক্ষার্থীরা শিবির সমর্থিত প্যানেলগুলোর প্রতি সর্বোচ্চ আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। যেখানে ভোটের ব্যালটে ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয়তার সমীকরণে এগিয়ে আছেন শিবির প্যানেলের রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। যিনি এককভাবে কাস্টিং ভোটের ৬২.৮৪% শতাংশ ভোট অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও, সবচেয়ে স্থিতিশীল ভোটের ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভিপি ও জিএসের মধ্যে। যার পরিসংখ্যান ভিত্তিক ভোট পার্থক্য মাত্র ০.৭৭%।

প্রাসঙ্গত, দেশের ৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১,২৮,৮৪০ জন ভোটারের মধ্যে ৮৫,৯৩৫ জন শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। গড় ভোট পড়ার হার ৬৬.৭১%। ডাকসুতে সর্বোচ্চ ৭৩.৪২% এবং চাকসুতে সর্বনিম্ন ৬৪.৩৯% ভোট কাস্টিং হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের এই সুযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।