ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হয়ে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীতে আবারও রক্তাক্ত রাজনীতি ও সন্ত্রাসের নির্মম চিত্র সামনে এলো। ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে স্টার হোটেলের সামনে মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। একই ঘটনায় আবু সুফিয়ান নামের আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত সুফিয়ান কারওয়ান বাজার ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে পরপর পাঁচটি গুলি ছোড়ে। এর মধ্যে একাধিক গুলি তার পেটে লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে দুইজনকে গুলি করা হয়। এর মধ্যে আজিজুর রহমান মুসাব্বির মারা গেছেন এবং অপরজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনে তেজতুরী বাজার এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা এই হামলা চালায়। হামলার পরপরই তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।
এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, রাজধানীতে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ। প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার মতো ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দমন কার্যক্রম কতটা কার্যকর, তা নিয়েও জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকার মধ্যেই আরেকটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড দেশের পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।