মহরম হাসান মাহিম, (খুলনা)
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) প্রশাসন ও ছাত্রলীগের নির্যাতনের বিচারহীনতা এবং তদন্ত রিপোর্ট গোপনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহিদুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কুয়েট ছাত্রলীগের হাতে তিনি বর্বর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। কিন্তু ওই সময় কুয়েট প্রশাসন তার পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে উল্টো ছাত্রলীগের পক্ষ নেয় এবং প্রশাসন নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
তিনি বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে খুলনা মেডিকেল কলেজের প্রিজন সেল থেকে আদালতের মাধ্যমে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিনা অপরাধে আমাকে ৫২ দিন কারাভোগ করতে হয়। পরে ২ নভেম্বর ২০২২ সালে আমি জামিনে মুক্তি পাই।
জেল থেকে মুক্তির পর একাধিকবার নিরাপত্তা চাইলেও কুয়েট প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফলে প্রায় দুই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি এবং তার একাডেমিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জাহিদুর রহমান আরও বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর তিনি পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে কুয়েট প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ পাঁচ মাস তদন্ত শেষে ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ সালে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটি ১৩ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, যার মধ্যে ১০ জনের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানান।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার মূল কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত তৎকালীন ভিসি মিহির রঞ্জন হালদার, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ইসমাইল সাইফুল্লাহ, হল প্রভোস্ট হামিদুল ইসলাম, সহকারী হল প্রভোস্ট সুনন্দ দাসসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি তার বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলার বাদী, কুয়েটের সিকিউরিটি ইনচার্জ সাদেক হোসেন প্রামাণিক এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসন তাকে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের কপি দিতে বারবার অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা তার আইনি লড়াইকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ বিষয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কুয়েট প্রশাসন কোনো জবাব দেয়নি।
তিনি বলেন, এই আচরণ প্রমাণ করে, প্রশাসন অপরাধী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে এবং আমাকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করতে সচেষ্ট।
সংবাদ সম্মেলন থেকে জাহিদুর রহমান তিনটি দাবি উত্থাপন করেন:
১) তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ ও তাকে সত্যায়িত কপি সরবরাহ।
২) ঘটনায় জড়িত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বরখাস্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে বাদী করে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের।
৩) তার একাডেমিক ক্ষতি, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের নিশ্চয়তা।
এ সময় তিনি কুয়েট প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট হস্তান্তর ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তিনি কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি বা উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই শুরু করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।