সজিব রেজা, দিনাজপুর
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) জেদান আল মুসার নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারের সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন, ৫টি সিমকার্ড এবং নগদ ১,৪৮,১৩৫/- টাকা উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন।
আটক ব্যাক্তিরা হলেন- নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রয়েরবাড়ি চরহোসেনপুর গ্রামের ইদ্রিস খন্দকারের ছেলে জুনাইদ খন্দকার (২৪) এবং ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরহোসেনপুর গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে মো. হিমেল (২২)।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতারক চক্রটি দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের দুইজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিল্পপতি দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সরকার ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনে বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামান মিয়ার কাছে নিজেদেরকে পুলিশ সুপার জেদান আল মুসার পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করে। তারা নির্বাচনকালীন সময়ে দিনাজপুর-চিরিরবন্দর সড়কে পুলিশ বক্স স্থাপন করা হবে এমন ভুয়া আশ্বাস দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। এরপর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তে নেয় পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর ও ময়মনসিংহ থেকে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
তিনি আরো বলেন জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা জানায়, তারা নিজেদের দিনাজপুর পুলিশ সুপার এর পরিচয় দিয়ে বিকাশসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। তারা বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের “পুলিশ কন্ট্রোল রুম”-এর নম্বর সংগ্রহ করে এসপি পরিচয়ে কল দিয়ে প্রতারণা করত।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন আরো জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রতারক চক্র দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে প্রতারণা চালানোর পরিকল্পনাও করছিল। এ ঘটনায় দিনাজপুর চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই প্রতারকের দেওয়া তথ্যে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।