আধিপত্যবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটতরাজের বিরুদ্ধে মানবিক মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ‘আজাদি পদযাত্রা’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই কর্মসূচির সূচনা হিসেবে আধিপত্যবাদবিরোধী শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ের পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হাদির কবর জিয়ারত করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এ সময় ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদাসসির, সেক্রেটারি আল আমিন সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আজাদি পদযাত্রা শুরুর আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতির সামনে দুটি পথই খোলা ছিল—একটি আজাদির জোট, আরেকটি গোলামির জোট। তিনি বলেন, যে ব্যবস্থায় সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরাধীনতা চেপে বসেছে, সেখানে লুটেরা ও অর্থপাচারকারীরা আবার বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে মাথা নত করছে। এই বাস্তবতায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আসন্ন নির্বাচনে গোলামির নয়, আজাদির পক্ষে দাঁড়ানোর।
পাটওয়ারী বলেন, দেশের টাকা বিদেশে পাচারকারী ও জনগণের পকেট কেটে নেওয়া শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে আজাদির সংগ্রামই একমাত্র পথ। তিনি দাবি করেন, এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট বাংলাদেশের প্রকৃত মুক্তির লক্ষ্যে এই আজাদির লড়াই অব্যাহত রাখবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদির বিচার নিশ্চিত করা এবং তিনি যে আজাদির সংগ্রামের সূচনা করেছিলেন, তা পূর্ণতা দেওয়াই এখন তাদের প্রধান দায়িত্ব। হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে সেই অঙ্গীকার নতুন করে উচ্চারিত হয়েছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকেই আজাদি যাত্রা আবার শুরু করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দলীয় দাসত্ব পরিহার করে জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।