রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
উপকূলীয় জেলা বরগুনার আমতলী উপজেলার গ্রামাঞ্চলে তরমুজ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এখন যেন ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই কারও। পুরুষদের পাশাপাশি পরিবারের নারী সদস্য ও শিশুরাও মাঠে নেমে পড়েছেন তরমুজের পরিচর্যায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৫শ হেক্টর। তবে কৃষকদের আগ্রহ ও অনুকূল পরিবেশের কারণে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে। দোআঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এ উপজেলায় রসালো তরমুজের ফলন ভালো হয়ে থাকে।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে আঠারোগাছিয়া, কুকুয়া, হলদিয়া, চাওড়া ও সদর ইউনিয়নে তরমুজের আবাদ ও ফলন বেশি হয়। কৃষকরা ইতোমধ্যে জমি প্রস্তুত করে বীজ রোপণ শেষ করেছেন। বর্তমানে চারাগুলো বড় হওয়ায় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
সরেজমিনে চাওড়া, গুলিশাখালী, সোনাখালী, গাজীপুর, পাতাকাটা, চন্দ্রা, উত্তর ও দক্ষিণ রাওঘা, কুকুয়াহাট ও কৃষ্ণনগর গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ জুড়ে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। পরিচর্যার কাজে পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও অংশ নিচ্ছেন।
গুলিশাখালী গ্রামের চাষি রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, বীজের দাম কম থাকায় এ বছর তরমুজ চাষে খরচ কিছুটা কম হবে। কুকুয়া গ্রামের খোকা মিয়া বলেন, টানা কয়েক বছর লোকসান হলেও ভালো ফলনের আশায় এবারও ছয় একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। সোনাখালী গ্রামের হারুন তালুকদার জানান, তিনিও এ বছর ছয় একর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে এ চাষে ঝুঁকছেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করা যাচ্ছে।