রোকুনুজ্জামান, জবি প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গীতে ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ পরিবহনের একটি বাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের হুমকি এবং প্রতিবাদকারীকে রড দিয়ে মারধরের ঘটনায় বাসচালক ও তার সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) পশ্চিম টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হলেন বাসচালক মো. আ. হালিম (২৯) ও তার সহকারী মো. আমির হোসেন (৪৫)। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাইম ইসলামের স্ত্রী উত্তরা থেকে টঙ্গী যাচ্ছিলেন ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ পরিবহনের একটি বাসে। তিনি সংরক্ষিত আসনে বসে ছিলেন।
এ সময় বাসচালক তাকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক ও অশ্লীল মন্তব্য করেন। বাসটি টঙ্গী সফিউদ্দিন সরকার একাডেমির সামনে পৌঁছালে ওই নারী বাস থামাতে বলেন। চালক বাস না থামালে তিনি চিৎকার শুরু করেন। অভিযোগে বলা হয়, এ সময় চালক তাকে বাসের ভেতরেই ধর্ষণের হুমকি দেন।
ঘটনাটি দেখে যাত্রী নুরনবী প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে গেলে চালক ও তার সহকারীর সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। পরে বাসটি হোসেন মার্কেট এলাকায় থামানো হলে ওই নারী বাস থেকে নেমে যান। তবে অন্য যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর নুরনবীকে রড দিয়ে মারধর করেন চালক, সহকারী ও অপর এক ব্যক্তি।
স্থানীয়দের সহায়তায় পরে বাসটি আটক করা হয়। ঘটনার পর চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেলেও একই পরিবহনের আরেক চালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত চালক ও সহকারীকে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাইম ইসলাম বাদী হয়ে পশ্চিম টঙ্গী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া প্রতিবাদকারী যাত্রীকে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
পশ্চিম টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন খান বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”