ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি-এর ছোট বোন মাসুমা হাদি বলেছেন, ওসমান হাদিকে হত্যা করে বাংলাদেশকে আরও বহু বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ওসমান হাদি যদি আরও পাঁচ বছর বেঁচে থাকতেন, তাহলে দেশ এমন এক জায়গায় পৌঁছাত যেখানে তা হতো সাধারণ মানুষের বাংলাদেশ।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মাসুমা হাদি।
তিনি বলেন, “আমার ভাইকে যদি সত্যিকার অর্থে বাঁচিয়ে রাখতে চান, তাহলে তার চিন্তা ও কাজগুলো এগিয়ে নিতে হবে।” হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এর পেছনে আওয়ামী লীগ এবং দেশীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন এজেন্ট কাজ করেছে। তাঁর ভাষায়, ওসমান হাদির মাথায় গুলি চালানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
মাসুমা হাদি আরও বলেন, ওসমান হাদি বেঁচে থাকলে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা বুঝে যেত যে ক্ষমতার দোহাই দিয়ে আর অপরাধ চালানো যাবে না এবং অর্থের বিনিময়ে কাউকে কেনা সম্ভব হবে না।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এই সরকার বিপ্লবী সরকার হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেন ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আপস করেছে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এর ফলে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি প্রকৃত বিপ্লবী সরকার প্রয়োজন। ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে আর কোনো ওসমানের জন্ম হবে না এবং কোনো পরিবার তাদের সন্তানকে এ দেশে রাজনীতিতে রাখবে না। তাঁর মতে, ওসমান হাদি কেবল বাংলাদেশের নন, বরং বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচারের প্রতীক।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে মাসুমা হাদি বলেন, অর্থের বিনিময়ে মিছিল ও মোটরসাইকেল শোডাউন বন্ধ করতে হবে। টাকা ও প্রতীকের রাজনীতি বন্ধ না হলে ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসবে না। তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, প্রতীক দেখে নয়—বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি করে এমন প্রার্থীকেই ভোট দিতে।
তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের বিভিন্ন শক্তি এবং দেশীয় রাজনীতির কিছু অংশ মিলেই দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তোলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে হামলার শিকার হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরবর্তীতে তাঁর মরদেহ দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর সমাধির পাশে দাফন করা হয়।