শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা দেশের বাইরে পালিয়ে থাকলেও তাদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে এবং চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়েই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সবাইকে জানানো হবে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠির নলছিটি লঞ্চঘাট-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি লঞ্চঘাট’ নামকরণের ফলক উন্মোচন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, হাদির নাম এখন আর বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। বিপ্লব ও সংগ্রামের ইতিহাস যতদিন স্মরণ করা হবে, ততদিন মানুষ হাদিকেও স্মরণ করবে। যেহেতু হাদি নলছিটির সন্তান, তাই তার জন্মভূমির লঞ্চঘাট তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। এটি স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাদির বোন মাছুমা হাদি, ভগ্নিপতি আমির হোসেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ নলছিটির সন্তান সেলিমের বাবা সুলতান হোসেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রফিকুল করিম, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক আমজাদ হোসেন, ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মোমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোবায়ের হাবিব এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল আলম।
এদিকে অনুষ্ঠানের মধ্যেই হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ব্যানার হাতে নৌ উপদেষ্টার সামনে বিক্ষোভ করেন হাদির সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাছুমা হাদি। তিনি বলেন, হাদির মাথায় গুলি চালানোর অর্থ পুরো বাংলাদেশ, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুলি চালানো। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিচার তিনি চান।
তিনি আরও বলেন, যারা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের জনসম্মুখে বিচারের আওতায় আনতে হবে। হাদির রেখে যাওয়া বক্তব্য ও চিন্তাধারার গুরুত্ব অনুধাবন করেই ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিবিদদের দেশ পরিচালনা করা উচিত।
মাছুমা হাদি অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় প্রায় ১৭ বছর ধরে শরীফ ওসমান হাদি ‘সীমান্ত শরিফ’ নামে একটি ফেসবুক আইডির মাধ্যমে প্রতিবাদী লেখা প্রকাশ করতেন। সেখান থেকেই তার চিন্তা ও অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়।
তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং দেশের কিছু রাজনৈতিক শক্তি জড়িত। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের পাশাপাশি নেপথ্যে থাকা সকল ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।