আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঠালিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। নির্বাচনে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আসন সমঝোতা হওয়ার পর ইসলামী দলগুলো নারী প্রার্থীকে কীভাবে গ্রহণ করবে—এ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন ডা. মাহমুদা মিতু।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এনসিপি ও ইসলামী দলগুলোর নির্বাচনী জোটের পর একজন নারী প্রার্থী হিসেবে তাঁকে নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহল থেকে বারবার একই প্রশ্ন করা হচ্ছে—ইসলামী দলগুলো তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবে কি না এবং তাঁকে কীভাবে গ্রহণ করবে।
ডা. মিতু বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনই তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জামায়াতে ইসলামীসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোয়া চেয়েছেন। সে সময় তাঁরা তাঁকে স্পষ্টভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে, পুরুষ প্রার্থীর জন্য যদি তাঁরা ৭–৮ ঘণ্টা সময় দেন, নারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় ও শ্রম দেবেন।
তিনি বলেন, ইসলামী দলগুলো নারী প্রার্থী হিসেবে তাঁকে অতিরিক্ত সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে, আর এটিই প্রকৃত ন্যায্যতা। ইসলাম নারীকে যে মর্যাদা দিয়েছে, সেই ন্যায্যতার কারণেই নারীরা বরাবরই এগিয়ে থাকে।
ডা. মাহমুদা মিতু আরও বলেন, এই নির্বাচন শুধু ভোটের লড়াই নয়, বরং মানুষের ভালোবাসা অর্জনের একটি সুযোগ। মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার এই আকাঙ্ক্ষাই তাঁকে আজীবন সততা ও পরিশ্রমের পথে অবিচল থাকতে অনুপ্রাণিত করবে।
নিজের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি এই জনপদের মানুষের জন্য একটি সেতু হতে চান—যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কণ্ঠ, ইনসাফ ও ন্যায়ের দাবি জাতীয় সংসদে পৌঁছাবে। মানুষ যা বলতে চায়, তিনি যেন তা সংসদে তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।
শেষে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, যেন ন্যূনতম ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পথে তিনি একজন সহযোগী হতে পারেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশ, জনপদ, রাস্তা ও গলিপথের মানুষের সমর্থনে এবার শাপলা কলি প্রতীক বিজয়ী হবে—ইনশাআল্লাহ।