দেশের স্বার্থে ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতের মতো আগামীতেও প্রিয় বাংলাদেশের স্বার্থে দুই দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।
কার্যালয়ে পৌঁছে জামায়াত আমির প্রথমে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন।
পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় তাঁর আজীবন সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, জীবনের শেষভাগে তিনি চরম একাকিত্ব ও অবহেলার শিকার হয়েছেন এবং সে সময় ক্ষমতাসীনদের আচরণ ছিল অমানবিক।
জামায়াত আমির আরও বলেন, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চাওয়া হলেও তৎকালীন সরকার তা উপেক্ষা করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে উপহাস করেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি বিদেশে চিকিৎসা নিতে পেরেছিলেন, ততদিনে তাঁর স্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়। তিনি খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বিএনপি নেতাকর্মী, পরিবার ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়া বিরল সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন। তাঁর জানাজায় মানুষের ঢল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এই সম্মান প্রমাণ করে—জাতির জন্য কাজ করলে জাতি কখনো তা ভুলে না। এটি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার বার্তা।
তিনি জানান, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক হয়—সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষই একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।
এছাড়া তিনি জানান, জাতির স্থিতিশীলতা ও একটি সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগেই বসে খোলামেলা আলোচনা করে জাতির স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন এবং সাইফুল আলম খান মিলন।