সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উপস্থিত হয়েছেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত জানাজাস্থলে তারা উপস্থিত হন।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে অনুষ্ঠিত এ জানাজায় অংশ নেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। জানাজা শেষে তিন বাহিনীর প্রধান মরহুমার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করেন।
এদিকে প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লাখো মানুষ জানাজাস্থলে সমবেত হন। জনস্রোত মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়িয়ে খামারবাড়ি, আসাদগেট ও ফার্মগেট এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। শোকাহত মানুষের চোখেমুখে ছিল গভীর বেদনা, কারও হাতে ছিল দলীয় পতাকা, কারও হাতে ফুল, আবার অনেককে দেখা যায় নীরবে দোয়া করতে।
জানাজা ও দাফনপূর্ব আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে পুরো এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর দেড় হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ দাফনের উদ্দেশে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থানের জন্য পরিচিত এই নেত্রীর বিদায়ে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।