ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লেয়াকত আলী। তিনি বলেন,
“আমার দল (বিএনপি) বড়লোকের সঙ্গে, টাকাওয়ালাদের সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত। এ কারণেই আমি দল ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি।”
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন লেয়াকত আলী। তিনি বলেন,
“দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় মাঠ বাঁশখালীর জলদি হাইস্কুল মাঠে লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত হয়ে আমাকে নির্বাচন করতে আদেশ দিয়েছেন। সুতরাং আমি দলের চেয়েও বাঁশখালীর মানুষকে বেশি প্রাধান্য দিই।”
নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি আরও বলেন, “স্বামী যদি বারবার পরকীয়ায় আসক্ত হয়, স্ত্রী সংসার টিকিয়ে রাখতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করে। এরপরও যদি স্বামী পরকীয়া বন্ধ না করে, তাহলে স্ত্রীকে সংসার ত্যাগ করতে হয়। আমার দল বড়লোক ও টাকাওয়ালাদের সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত। তাই আমি দল ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।”
এর আগে রোববার চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হতে গিয়ে গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. লেয়াকত আলী। তিনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
এদিকে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একজন ছিলেন লেয়াকত আলী।
উল্লেখ্য, মো. লেয়াকত আলী ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এবং ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার কারণে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে তিনি আবারও চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান।