শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করার দাবিতে আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে চলমান অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি জানান, রোববার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি চলবে। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, যারা আজ শাহবাগে উপস্থিত হয়েছেন, তারা যেন আগামীকালও ঠিক ১১টায় শাহবাগে হাজির হন এবং ইনসাফের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যান। কোনো ধরনের প্ররোচনা, ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, এই অবরোধ শুধু শহীদ হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে নয়, বরং বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপিয়ে দেওয়া ভারতীয় আধিপত্য ও প্রভাব থেকে মুক্তির দাবিতেও এই আন্দোলন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হাদি হত্যার বিচারের বিষয়ে দ্রুত ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেন, তাহলে ইনকিলাব মঞ্চ তাকে আর মান্য করবে না। ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপোস করা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
বক্তব্যে কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে জাবের বলেন, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা দাবি করছে ইনকিলাব মঞ্চ যমুনা ভবন ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা করছে এবং এটিকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল পেজ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো তথাকথিত সংবাদ বা গুজবে বিশ্বাস না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিন ধরে সংগঠনের নেতাকর্মীরা হত্যার হুমকি পাচ্ছেন। তবে তারা মৃত্যুকে ভয় করেন না। ‘শাহাদাতের তামান্না’ নিয়েই তারা রাজপথে নেমেছেন বলে জানান জাবের। তিনি উপস্থিত ছাত্র-জনতাকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আমরা যদি শহীদ হয়ে যাই, তাহলে কি আপনারা ইনসাফের এই লড়াই থামিয়ে দেবেন?” উপস্থিত জনতা একযোগে ‘না’ বলে স্লোগান দিলে তিনি আন্দোলন অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।