মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি :
দেশের অন্যান্য জেলার মতো মুন্সিগঞ্জেও জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই মুন্সিগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় নেমে আসে ঘন কুয়াশা। সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। এর প্রভাবে শহরের দোকানপাট স্বাভাবিক সময়ের আগেই খোলা হয় ।রাতের সময় অনেক দোকানি রাত ১০টার মধ্যেই ব্যবসা গুটিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।
শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের অটোরিকশাচালক মিজানুর রহমান বলেন, “সকালের দিকে শীতের জন্য বের হতে পারি না। তার ওপর নিত্যপণ্যের দাম বেশি। সব মিলিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।”
শীতের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের জীবনেও। ইদ্রাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিলা মাহমুদ জানায়, “প্রচণ্ড শীতের কারণে নিয়মিত স্কুলে যেতে সমস্যা হচ্ছে। গাড়ি কম চলায় দেরি হয়, পড়াশোনাও ঠিকমতো করা যাচ্ছে না।”
শীতের পোশাকের বাড়তি দামের কারণে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। শীতের কাপড় কিনতে এসে রাবেয়া খাতুন বলেন, “মার্কেটে শীতের কাপড়ের দাম অনেক বেশি। তাই ভ্যান থেকে কম দামে কাপড় কিনে পরছি।”
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ঠান্ডার অনুভূতি আরও বাড়তে পারে এবং রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, রোববার ও সোমবার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। রাত ১০টার পর থেকে সকাল পর্যন্ত উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সোমবার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দেশের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।