বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের নাম উচ্চারিত হলেই ফিরে আসে স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান-এর স্মৃতি। অনেকের চোখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেন পিতারই অবিকল প্রতিচ্ছবি। কথা বলার ভঙ্গি, শারীরিক গঠন ও মুখাবয়বে মিল—সব মিলিয়ে এই সাদৃশ্য নতুন করে মানুষের উপলব্ধিকে আরও গাঢ় করেছে।
পিতার আদর্শ, চিন্তা ও নেতৃত্বের দৃঢ়তার সঙ্গে তারেক রহমানের রাষ্ট্রচিন্তায় স্পষ্ট মিল থাকলেও সময়ের বাস্তবতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তিনি নিজস্ব ও যুগোপযোগী কিছু পরিকল্পনা সামনে এনেছেন। এসব পরিকল্পনাই তাকে আলাদা পরিচিতি দিচ্ছে বলে মনে করেন দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দলীয় সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ। ব্যক্তি নির্ভর রাজনীতির পরিবর্তে তিনি নীতি নির্ভর ও কাঠামোগত রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিএনপিকে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর রাজনৈতিক সংগঠনে রূপ দেওয়াই তার মূল উদ্দেশ্য।
তরুণ ও নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়টিও তার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জিয়াউর রহমানের সময়কার অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, প্রযুক্তি-সচেতন ও নৈতিকভাবে দৃঢ় তরুণদের রাজনীতিতে যুক্ত করতে তিনি আগ্রহী। তারেক রহমানের বিশ্বাস—ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সহায়তাকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ, প্রবাসী আয়ের কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা তার পরিকল্পনায় স্থান পেয়েছে।
এ ছাড়া ডিজিটাল প্রশাসন ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো শক্তিশালী করা, স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা—এসবই তার রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আদর্শ ও চেতনায় জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার বহন করলেও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নিজস্ব পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে তারেক রহমান নিজেকে একজন স্বতন্ত্র রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।