বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ঢাকার জেলা ক্রীড়া সংস্থা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের ২০২৫–২০২৬ কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশন পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য শুভ সংকেত। জাতীয় সংকটময় সময়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্য অপরিহার্য। তবে ভবিষ্যতে তারেক রহমান জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রত্যাশার প্রশ্নে কী ভূমিকা রাখেন—তার ওপরই এই প্রত্যাবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব নির্ভর করবে।
শহীদ শরীফ উসমান হাদীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কায়েমী স্বার্থবাদী ও বুর্জোয়া শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে দেশ ও জাতির জন্য আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তিনি। জানাজায় বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে—হাদী আজও জনতার চেতনায় উজ্জ্বল।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে তার শাহাদাতের দীর্ঘ সময় পার হলেও মূল হত্যাকারী, ষড়যন্ত্রকারী ও নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই—যা জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলে কিছু মিডিয়া ফ্যাসিবাদকে তোষণ করে বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি করেছিল। তবে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—ইনসাফ চাই, আইন নিজের হাতে নেওয়া বা সহিংসতার রাজনীতি আমরা সমর্থন করি না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ ছাড়া নির্বিচারে গ্রেপ্তারও গ্রহণযোগ্য নয়।
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শত্রু ও মিত্র চেনায় ভুল হলে তার ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে। ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে না পারলে দেশ আবার সংকটে পড়বে।
অধিবেশনে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ অভিভাবক পরিষদ ও নির্বাহী পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।