মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শুলপুর খ্রিষ্টান পল্লীতে বিরাজ করছে উৎসবের আনন্দমুখর পরিবেশ। কনকনে শীত উপেক্ষা করে শিশু, কিশোর, নারী ও বৃদ্ধ—সবাই অংশ নিয়েছেন এ আনন্দঘন আয়োজনে।
মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বড়দিনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ভোরের আলো ফুটতেই পুরো পল্লী পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। সকাল থেকেই নতুন পোশাকে সজ্জিত খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ গির্জামুখী হন।
সকাল ৭টা থেকে শুলপুর গির্জায় বিশেষ মঙ্গল প্রার্থনায় অংশ নেন প্রায় দেড় হাজার খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। প্রার্থনার সুর, ধর্মীয় সংগীত আর শিশুদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়দিন উপলক্ষে গির্জা ও আশপাশের এলাকা সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জা, রঙিন কাগজ, ব্যানার ও ধর্মীয় প্রতীকে। অতিথিদের জন্য ছিল নানা ধরনের পিঠা-পুলি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন। দিনব্যাপী ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন ও সামাজিক মিলনমেলার মধ্য দিয়ে উদযাপন চলে।
শুলপুর গির্জার ফাদার লিংকন মিথাইল কস্তা বলেন, “বড়দিন আমাদের কাছে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভালোবাসা, ত্যাগ ও মানবতার শিক্ষা দেয়। এ দিনে আমরা দেশ ও জাতির শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণ কামনা করি।”
তিনি আরও জানান, বড়দিনকে ঘিরে এক সপ্তাহ আগেই গির্জা ও পল্লীতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। গত বছর নানা কারণে আয়োজন সীমিত থাকলেও, এ বছর উৎসবে ফিরেছে পূর্ণতা ও প্রাণচাঞ্চল্য।
এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড়দিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ছিল সতর্ক। মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. আসলাম খান জানান, বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান পল্লীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গির্জা ও আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে ছিলেন।
সব মিলিয়ে নিরাপত্তার চাদরে মোড়া, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বড়দিন উদযাপন করেছেন শুলপুর খ্রিষ্টান পল্লীর বাসিন্দারা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির এই উৎসব এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার বার্তা।