সব জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে লন্ডনের বাসা থেকে হিথ্রো বিমানবন্দরের পথে রওনা হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে হিথ্রো বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। লন্ডন বিএনপির এক নেতার ফেসবুক লাইভে দেখা যায়, তারেক রহমানের গাড়ির সামনে ও পেছনে আরও তিনটি গাড়ি ছিল, যা ঘিরে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, বোয়িং ৭৮৭-৬ ড্রিমলাইনারে পরিচালিত বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে বিজনেস ক্লাসে তারেক রহমানের জন্য ছয়টি টিকিট কেনা হয়েছে। নিয়মিত এই বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তার সঙ্গে দেশে ফিরছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, তার ব্যক্তিগত সচিব আব্দুর রহমান সানি, দলের প্রেস উইংয়ের সদস্য সালেহ শিবলী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা কামাল উদ্দীন।
তবে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর দুই কন্যা—জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান—এই সফরে চাচার সহযাত্রী হচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া নিজস্ব অর্থে একই ফ্লাইটের বিজনেস ক্লাসে টিকিট কেটেছেন আরও অনেকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মাহিদুর রহমান, মুজিবুর রহমান মুজিব, খছরুজ্জামান খছরু, নাসির আহমদ শাহীন, রহিম উদ্দীন, আসাদুজ্জামান আহমদ, গোলাম রব্বানী, মঈন উদ্দীন, জুবায়ের বাবু, এম এ সালাম, ডালিয়া লাকুরিয়া প্রমুখ।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, যুক্তরাজ্য ছাড়াও আয়ারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইকোনমি ক্লাসের টিকিট কেটে একই ফ্লাইটে দেশে আসছেন। এর বাইরে তারেক রহমানের গৃহকর্মীরাও এই যাত্রায় রয়েছেন। সব মিলিয়ে ফ্লাইটটিতে তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফিরছেন ৫০ জনের বেশি যাত্রী।
যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, তারেক রহমান মূলত পরিবার ও ব্যক্তিগত স্টাফদের নিয়েই দেশে ফিরছেন। তবে অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে টিকিট কেটে একই ফ্লাইটে বাংলাদেশে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ যাত্রাপথে সিলেটে যাত্রাবিরতির পর আগামীকাল বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ অবতরণের কথা রয়েছে। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন।
বিমানবন্দরের রজনীগন্ধা লাউঞ্জে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করবেন তারেক রহমান। সেখানে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কৌশলগত মতবিনিময়ের পর তিনি সড়কপথে এভারকেয়ার হাসপাতাল–এর উদ্দেশে রওনা হবেন।
এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পথে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে, অর্থাৎ ৩০০ ফিট সড়কে তিনি সংক্ষিপ্ত গণসংবর্ধনায় অংশ নেবেন। সেখানে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো এবং মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের কথা রয়েছে তার।
এরপর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া–কে দেখতে যাবেন। সেখানে তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে মায়ের স্বাস্থ্যের সর্বশেষ খোঁজ নেবেন। কিছু সময় মায়ের সঙ্গে কাটিয়ে তিনি গুলশানের বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হবেন।
তারেক রহমান গুলশানে মায়ের বাসা ‘ফিরোজা’ নাকি নিজের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে উঠবেন—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।