মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি :
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জাগো নিউজ-২৪.কম-এর জেলা প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলামকে (৩০) কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। হামলার এক পর্যায়ে তাকে পাশের ইছামতি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের মাঝের চর গ্রামে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাইফুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার যোগনীঘাট এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল ইসলামের মাতৃকুলের ওয়ারিশ সূত্রে বালুচর ইউনিয়নের চৌদ্দগ্রাম এলাকায় ইছামতি নদীর তীরবর্তী কিছু জমির মালিকানা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একই ইউনিয়নের চর বয়রাগাদী গ্রামের মোহাম্মদ ইয়াকুব, ইউনুস, রাব্বি, ইসলাম ও ফারুক ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিল। এ নিয়ে একাধিকবার বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জমি নিয়ে বিরোধের কারণে কয়েক বছর আগে আদালতের শরণাপন্ন হন সাইফুলরা। আদালতের রায়ে জমির দখল সাইফুলদের পক্ষে গেলেও প্রতিপক্ষ বারবার বাধা দিয়ে আসছিল। বুধবার দুপুরে সাইফুল ইসলাম ও তাঁর স্বজনরা জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন লোহার রড, দা ও বাঁশ নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা সাইফুলকে নির্মমভাবে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং এক পর্যায়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে পাশ্ববর্তী ইছামতি নদীতে ফেলে দেয়। একই সঙ্গে জমি চাষের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিরাজদীখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মিঠুন বর্মন জানান, “মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে একজন রোগীকে আনা হয়েছিল। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়।”
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. আতাউল করিম বলেন, “সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ৪ ডিসেম্বর একই জমিতে চাষাবাদকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা সাইফুল ইসলামের খালা ও খালাতো ভাইসহ অন্তত ছয়জনকে মারধর করে আহত করে। সে ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।