মো. বদরুল আলম,সখীপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের সখীপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও বহুল আলোচিত ফাইলা পাগলা মেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জানা যায়, সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে প্রায় ৭৬ বছর ধরে চলে আসা ফাইলা পাগলা মেলা একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। প্রতি বছর হিজরি রজব মাসের প্রথম দিন থেকে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়ে মাসব্যাপী চলে। পূর্ণিমার রাতে অনুষ্ঠিত হয় বড় মেলা। তবে মানতকারী ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে পুরো মাসজুড়ে।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ মানত করা মোরগ, খাসি ও গরু নিয়ে দাড়িয়াপুরের লালমাটির পাহাড়ি এলাকায় জড়ো হন। মাজারের চারপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মোরগ ও গরু-খাসি জবাই করে মানত আদায় করা হয়। ফলে প্রতিদিনই সেখানে বিপুল জনসমাগম সৃষ্টি হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনকালীন সময়ে এ ধরনের বড় আকারের ও দীর্ঘস্থায়ী মেলায় অতিরিক্ত জনসমাগম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেকোনো বড় জনসমাগম ও দীর্ঘমেয়াদি উৎসব সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অংশ হিসেবে ফাইলা পাগলা মেলা স্থগিত করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন্নাহার শিলা, সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হেলাল উদ্দীন, বাসাইল সেনা ক্যাম্পের একজন সেনা কর্মকর্তা এবং পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে দোকানপাট ও অস্থায়ী স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন এবং আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন্নাহার শিলা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সে কারণে আপাতত বড় ধরনের জমায়েত, মেলা, ওরস, ও উৎসব বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সখীপুর থানার ওসি হেলাল উদ্দীন জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও মেলা আয়োজকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এ ধরনের যৌথ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।