প্রথাগত টাকার রাজনীতিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত গড়লেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, চিকিৎসক ও সমাজকর্মী তাসনিম জারা। নির্বাচনী প্রচারণার জন্য তহবিল সংগ্রহের আহ্বান জানানোর মাত্র ২৯ ঘণ্টার মধ্যেই পূরণ হয়েছে নির্ধারিত ৪৭ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রা। সাধারণ মানুষের এই অভাবনীয় সাড়াকে পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে আঘাত বলেই আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তাসনিম জারা জানান, আপাতত আর কোনো অনুদান নেওয়া হবে না। তার ভাষায়, এই সাড়া প্রমাণ করে দিয়েছে—জনগণ চাইলে টাকার রাজনীতিকে পরাজিত করা সম্ভব।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনে বহু প্রার্থী ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা খরচ করে ভোট কেনার চেষ্টা করেন। সেই ধারার বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনো পেইড কর্মী তিনি নেবেন না। তাসনিম জারা বলেন, ঢাকা-৯ আসনে প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার রয়েছেন। একা হেঁটে সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে স্বেচ্ছাসেবকরাই হবে মূল শক্তি।
তিনি আরও বলেন, নিয়মনীতি মেনে তিনি কোনো অবৈধ পোস্টার বা ব্যানার লাগাননি, যদিও অনেক প্রার্থী তা করছেন। এই অসম প্রতিযোগিতায় জিততে তিনি ভোটারদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
নির্বাচনী লড়াই সামনে রেখে তাসনিম জারা দুটি স্পষ্ট আহ্বান জানিয়েছেন। প্রথমত, ডোর-টু-ডোর ক্যাম্পেইনের জন্য সপ্তাহে মাত্র ৪ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় দিতে পারবেন—এমন স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন।
তার মতে, একটি পেইড বিলবোর্ডের চেয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা অনেক বেশি শক্তিশালী। দ্বিতীয়ত, ভোটের দিন প্রতিটি বুথে সাহসী মানুষ দরকার, যারা অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে পারবেন।
আগ্রহীদের যুক্ত হওয়ার জন্য তিনি দুটি ফেসবুক গ্রুপের লিংকও শেয়ার করেছেন।
সংগৃহীত অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাসনিম জারা চারটি কঠোর নীতির কথা জানান। কোনো নগদ অনুদান গ্রহণ করা হয়নি; সব অর্থ নির্দিষ্ট বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এসেছে। তহবিলের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা হবে এবং নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। নির্বাচনী অ্যাকাউন্টে কোনো ব্যক্তিগত লেনদেন করা হবে না। কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে—তা জনগণের সামনে খোলাখুলি তুলে ধরা হবে।
সবশেষে তাসনিম জারা বলেন,“আমরা একসঙ্গে প্রমাণ করবো—জনগণের সম্মিলিত শক্তির সামনে কোটি কোটি কালো টাকা কতটা অসহায়।”