নির্বাচনী ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রাজনীতি করার অঙ্গীকার করে মাত্র ৭ ঘণ্টায় ১২ লাখ টাকার বেশি অনুদান সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন নির্বাচনী প্রার্থী তাসনিম জারা। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
একই দিনে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অথবা ভোটারপ্রতি ১০ টাকা—যেটি বেশি হয়—সে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে পারেন। তবে বাস্তবে দেশে নির্বাচনী ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার মতে, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ থেকেই নির্বাচনের পর চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি কার্যত “বাধ্যতামূলক” হয়ে ওঠে, যার ফলে রাজনীতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়।
তাসনিম জারা বলেন, তিনি এই “অসততা ও মিথ্যার রাজনীতি”তে যুক্ত হবেন না এবং আইন নির্ধারিত সীমার বাইরে এক টাকাও খরচ করবেন না। তিনি জানান, তার নির্বাচনী আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার। সে হিসাবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী তিনি সর্বোচ্চ ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন। এই অর্থ পুরোপুরি জনগণের কাছ থেকেই সংগ্রহ করার আহ্বান জানান তিনি।
ফান্ড সংগ্রহ শুরুর মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যেই ১২ লাখ টাকার বেশি অনুদান আসাকে তিনি “অভূতপূর্ব” বলে উল্লেখ করেন এবং দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৩৪ লাখ টাকা সংগ্রহ সম্পন্ন হলে ফান্ডরেইজিং কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, রাত ২টার পর বিকাশের নির্ধারিত লেনদেন সীমা অতিক্রম করায় আপাতত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো যাচ্ছে না। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
তাসনিম জারা প্রতিশ্রুতি দেন, সংগৃহীত অর্থ কোথা থেকে আসছে এবং কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে—প্রতিটি টাকার হিসাব প্রমাণসহ জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থাকে।