জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চ-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দায়িত্ব এড়িয়ে নীরবে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে রাজধানীর শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে জুমা বলেন, “পদত্যাগ বা বিদায়ের আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে স্পষ্ট করে জানিয়ে যেতে হবে—কারা তাকে কাজ করতে দেয়নি এবং কোন কোন শক্তির সঙ্গে লিয়াজোঁ করে তিনি দায়িত্বে ছিলেন।” তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিচার প্রশ্নে সময়ক্ষেপণ করে জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত করার চেষ্টা করছে।
জুমা বলেন, সরকার বা উপদেষ্টারা যদি দায়িত্ব এড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার পথ খোঁজেন, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তার ভাষায়, “পালানোর আগে আমাদের বলে যেতে হবে—কারা সরকারকে কাজ করতে দেয়নি এবং কার সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় বসে ছিলেন।”
সমাবেশে তিনি আরও বলেন, সরকারের মেয়াদ অনিশ্চিত হওয়ায় কেউ কেউ আগেভাগে পদত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করলে জনগণ তা রুখে দেবে। “আপনি যাবেন, কিন্তু যাওয়ার আগে সত্যটা বলে যেতে হবে,”—বলেন তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের এই নেত্রী দাবি করেন, হাদি হত্যার পেছনে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট কাজ করেছে, যার সঙ্গে রাষ্ট্রের একটি অংশ জড়িত। তিনি বলেন, “এটা নিছক ব্যর্থতা নয়, এটি সচেতন অবহেলা।”
আইন উপদেষ্টার দেওয়া ৯০ দিনের সময়সীমা প্রত্যাখ্যান করে জুমা বলেন, সরকারের মেয়াদ যখন অনিশ্চিত, তখন ৯০ দিনের আশ্বাস অর্থহীন। তার দাবি, আগামী এক মাসের মধ্যেই বিচার কার্যক্রম শেষ করতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে।
সমাবেশে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। ঘোষণা দেন, হাদি হত্যার মূলহোতা ও পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চ রাজপথ ছাড়বে না এবং ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।